Thursday, May 16, 2019

বড় ভাইয়ের নজরদারির অভিনব কৌশল

বড় ভাই - আচ্ছা, বড় ভাইয়ের কাজ কি সবসময় নজর রাখা? বড় ভাই হিসেবে সবসময় নজর রাখতেই পারে। বড় ভাই যেহেতু হয়েছে, নজর রাখা তার ক্ষমতার মধ্যে পরে। কিন্তু ব্যক্তি স্বাধীনতা, ইচ্ছা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তায় যদি হস্তক্ষেপ করে তাহলে? তাহলে লাগবেটা কেমন?
আমি বড় ভাইয়ার কথা বলছি না। আমি Big Brother এর কথা বলছি। Big Brother is watching you. আশা করি খোলাসা করে আর বলতে হবে না। কিন্তু সেতো অনেক আগের কথা। বড় ভাই এখনও নজর রাখছে। বড় ভাইয়ের নজর রাখার ধরন পাল্টেছে। সে এক অভিনব কায়দা।
চেহারা সনাক্তকারী প্রযুক্তি - ক্যামেরা আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণে নজরদারির নতুন এক কৌশল। এতদিন পর্যন্ত যা ছিল - শপিং মল, অফিস, বিভিন্ন ভবন, দোকানপাট ইত্যাদিসহ নানা জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো থাকতো। ২৪*৭ এর ভিত্তিতে ভিডিও চিত্র ধারন হতে থাকে। প্রয়োজন, অপ্রয়োজনে নজর রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে, আর ক্যামেরা তার নিজের মত করে সেই চিত্র ধারন করে যাচ্ছে। কোনো বড় ধরনের ঘটনা ঘটলে তারিখ সময় অনুযায়ী চিত্র বের করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
চেহারা সনাক্তকারী প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে এই সিসিটিভি ক্যামেরার উপর ভর করে নিজে থেকেই চিনে নিচ্ছে ব্যক্তিদের পরিচয়। সে না হয় বুঝলাম সত্যি অভিনব প্রযুক্তি। সমস্যাটা হল প্রযুক্তিটি যে শুধু নীতিনির্ধারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থারাই  ব্যবহার করবে, অন্যরা করবে না তার কি নিশ্চয়তা? মানলাম সব কিছুরই ভালো-খারাপ দিক থাকে। বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র বিষয় ত্যাগ করাই যায়। এত বড় প্রযুক্তি যখন প্রয়োগ করা হবে তখন এর ফাঁকফোকর নিশ্চয় বন্ধ করা হবে। ঠিক আছে, মানলাম।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি এখন বলপ্রয়োগ করে একটা কিছু মানতে? দাঁড়ান, আইন প্রয়োগ করার যেমন ক্ষমতা আছে, বল প্রয়োগেরও ক্ষমতা আছে। আইন কি আর বল কি, জোর করে প্রয়োগ করাটা হল আসল কথা। এখন আসি আসল ঘটনায়। যুক্তরাজ্যে প্রযুক্তিটি পুলিশ ব্যবহার করছে। বিবিসির একটি ভিডিওতে দেখলাম, পূর্ব লন্ডনে পুলিশ রাস্তার পাশে একটি কাভার্ড ভ্যানের উপর দুইটি বিশেষ ক্যামেরা বসিয়ে রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারীদের স্ক্যান করছে। যা তাদের ডাটাবেসের সাথে মিলিয়ে দেখবে। একজন ব্যক্তি তার চেহারার কিছু অংশ ঢেকে হেঁটে যাচ্ছিল। পুলিশ তাকে আটকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কারণ ক্যামেরায় তার চেহারা সনাক্ত করা যাচ্ছিল না। লোকটির কথা হল, আমি যদি আমার চেহারা ঢেকে রেখে হাঁটতে চাই তাহলে সেটি করার অধিকার আছে (সম্পূর্ণ ঢেকে রাখেনি। খুব শীত, তাই হয়তো নাক ঢেকে রেখেছিল)। এ নিয়ে পুলিশের সাথে লোকটির বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে খারাপ আচরণ করার জন্য তাকে ৯০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়।
এ নিয়ে পুলিশের বক্তব্য হল, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কাজটি করা হচ্ছে। কারণ ঐদিনে চেহারা সনাক্তের মাধ্যমে তিনজনকে আটক করা হয়েছিল।
এখন, চেহারা সনাক্তকারী প্রযুক্তির কারণে কি আমাকে সবসময়ের জন্য সম্পূর্ণ মুখ খুলে চলতে হবে? সে না হয় চললাম, কিন্তু যাদের মাস্ক পড়াটা খুব জরুরী, সাইনাসের সমস্যা আছে, হাঁপানি আছে তারা কি ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সম্পূর্ণ চেহারা উন্মোচন করবে? ইতোমধ্যেই এই প্রযুক্তি নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। আন্দোলন হচ্ছে। যারা এর বিপক্ষে তাদের মত, প্রযুক্তিটি সময়োপযোগী নয়।
সে যাইহোক, সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হতে এখনও অনেক দেরি আছে। আর যাইহোক, এই কথা কখনো ভোলা যাবে না - Big Brother is watching you.

2 comments:

  1. ভালো লিখেছো।

    ReplyDelete
  2. আমাদের দেশেও এই রকম Big Brother দরকার ।

    ReplyDelete

Some Recent Posts

রুমাল ও চাবির গল্প

রাতে না খেয়ে ঘুমিয়েছিলাম। দীর্ঘ ঘুম। সকালে উঠেই দেখি হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। সেদিকে নজর না দিয়ে কিছু খেতে হবে এই চিন্তা শ...