Sunday, December 26, 2021

আনন্দ-উল্লাসের চেয়েও বেশি প্রয়োজন অকৃতকার্য বন্ধুর পাশে দাঁড়ানো

আর দুই-একের মধ্যেই একটি পাবলিক পরীক্ষার ফল বের হবে। এতে ফল বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিষ্টির দোকানে মিষ্টি শেষ হয়ে যাবে, পাড়া-মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়ে যাবে, ফোনে-ফোনে খুশির সংবাদ দেওয়া-নেওয়া চলবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "আই অ্যাম জিপিএ-ফাইভ" স্ট্যাটাস চলবে, ব্রডকাস্ট মিডিয়াগুলো ড্রাম বাজানো কিছু শিক্ষার্থীদের ঘিরে নাচানাচি করতে থাকা বাকিদের ভিডিও প্রতিটি সংবাদ বুলেটিনে দেখাবে, পরেরদিন সংবাদপত্রগুলো একসারি শিক্ষার্থীর "ভি" চিহ্নযুক্ত ছবি দিয়ে লিডনিউজ করবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। 


এইবিষয়গুলো যেমন খুবই সাধারণ,  অপরদিকে দেশজুড়ে কিছু শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেওয়ার বিষয়টিও সাধারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু আত্মহত্যাতো সাধারণ বিষয় হওয়ার কথা নয়!


তাহলে কমতি কোথায়? যারা আত্মহত্যা করছে তাদের দোষ দিবেন? এই ভুল ভুলেও করবেন না৷ সবার পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা এক নয় - এটি সবসময় মাথায় রাখবেন। 


তাহলে কী করা যেতে পারে? অনেককিছুই। 

যেকোনো সফলতার উল্লাস বা আনন্দ অবশ্যই করা উচিৎ।  কিন্তু অবশ্যই সেটা মার্জিত, পরিমিত। আমার পাশের ঘরে একজন অকৃতকার্য হয়েছে আর আমি দিব্বি গান ছেড়ে দিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে যাচ্ছি, তা কিন্তু মোটেই উচিৎ নয়। পারিবারিকভাবে ভালো খাবার আয়োজন করে একসাথে বসে খেলেও কিন্তু ঐ আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব।  


আপনি যেহেতু সফল হয়েছেন আপনি যদি এখন একা আপনার অকৃতকার্য বন্ধুর সাথে দেখা করতে যান তাহলে বিষয়টা তার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই একা না যেয়ে কয়েকজন মিলে একটা সময় ঠিক করে ঠিক ঐদিনই দেখা করে আসতে পারেন। বন্ধুকে পাশে পেলে অবশ্যই তার মনে যে ভাবনা চলছিলো তার কিছুটা হলেও পরিবর্তিত হবে। 


যে পাড়া বা মহল্লায় আপনারা অবস্থান করছেন সেখানে কয়েকজন অভিভাবক নিজ উদ্যোগে বাকি অভিভাবকদের একটু বুঝানোর চেষ্টা করা যেতে পারে৷ কারণ কিছু অভিভাবক আছেন যারা খারাপ ফল দেখলেই মুখে যা আসে তাই শুনিয়ে দিতে কৃপণতা করেন না। একইভাবে অন্যরা যেন কথায় কথায় এটা না বলে যে আমার সন্তান "জিপিএ-ফাইভ"। 


প্রতিটি ফলের পরেই সংশ্লিষ্ট কোচিং মোটামুটি একটা আয়োজন করে। সেখানে অল্পবিস্তর হলেও খরচ হয়। বিজ্ঞাপনে একটা বড় খরচ হয়৷ খরচটা এভাবে না করে কিছু ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে করা যেতে পারে। যারা ভালো ফল করেছে তাদের ঠিকানায় শুভেচ্ছা বার্তা চলে যেতে পারে। ফল প্রকাশের এক সপ্তাহ আগে থেকেই অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাউন্সেলিং সভা করা যেতে পারে। এতে যেটা হবে, শিক্ষার্থী একটি দ্বিতীয় চিন্তা (সেকেন্ড থট) করার সুযোগ পাবে। 


পরিশেষে ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শিক্ষকদের। যেহেতু তাদের হাতে সবার আগে ফল চলে আসে তাই তাঁদের হতে হবে সবচেয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল। ঐ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষক মিলে দুই-তিনটা দল গঠন করে দিবেন। যাঁরা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যেয়ে কথা বলবেন। ঐ শিক্ষার্থীর ও তার পরিবারের অবস্থা জেনে আসবেন। কৃতকার্য না হলেই যে জীবন শেষ নয় তা কিছুটা হলে বুঝানোর চেষ্টা করবেন। আর এই দেখা করার বিষয়টি যেন একাধিকবার হয় তা নিশ্চিত হয়।


আসুন, আমরা আমাদের পাশেরজনের কথা আগে ভাবি। একটু বিচক্ষণ পদক্ষেপ নেই।


(প্রথম আলোর একটি কলাপ পড়তে যেয়ে এই কথাগুলো মাথায় এসেছে। তাই উল্লেখ করলাম।)

Some Recent Posts

রুমাল ও চাবির গল্প

রাতে না খেয়ে ঘুমিয়েছিলাম। দীর্ঘ ঘুম। সকালে উঠেই দেখি হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। সেদিকে নজর না দিয়ে কিছু খেতে হবে এই চিন্তা শ...