Monday, May 27, 2024

রুমাল ও চাবির গল্প

রাতে না খেয়ে ঘুমিয়েছিলাম। দীর্ঘ ঘুম। সকালে উঠেই দেখি হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। সেদিকে নজর না দিয়ে কিছু খেতে হবে এই চিন্তা শুরু করলাম। রান্নাঘরে যেয়ে দেখি ব্যবস্থা আছে। গরম করে সিরিজ ছেড়ে দিয়ে শুরু করলাম। 

তখন মনে হলো, এই বৃষ্টিতে ভেজা যায়। একটু ভেবেই সিদ্ধান্ত নিলাম, বের হব। আজতো ছুটি। 

কিন্তু যখন বের হব তখন বৃষ্টি নেই বললেই চলে। তবুও বের হতে ইচ্ছা হলো। খুব ইচ্ছা হচ্ছিল মোবাইল সঙ্গে না নেওয়ার। তাই করলাম। মানিব্যাগও না। নিলাম শুধু রুমাল ও চাবি।

তখন যে বৃষ্টি হচ্ছিল না বললেই চলে, তবুও বের হয়ে ভালোই লাগছিল। ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাস হচ্ছিল। প্রতিদিন ব্যস্তভাবে যে রাস্তা দিয়ে যাই সে রাস্তা দিয়েই গেলাম। আজ সবাই ব্যস্ত, আমি ছাড়া। 

এই সময় একটু বৃষ্টি শুরু হলো। দেখি, একটি কাঁঠাল গাছে একটি কাঁঠাল ঝুলছে। একটি গাছে একটি কাঁঠালের এই ভেজা দৃশ্য দেখে মনে হলো, সুন্দর একখান ছবি হতো। ক্যাপশনে লিখা যেত, একাকিত্বের একরাশ অশ্রুসিক্ত দিন...

মূল রাস্তার কাছে যেতেই দেখি সবাই বাসে উঠতে ব্যস্ত। যে বাসগুলো যাচ্ছে, সেগুলোর প্রায় সবই মানুষে ঠাসা, দরজায় ঝুলছে। কারণ, মেট্রো চলছে না। বেশিরভাগই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষায়। একটু আনন্দই পেলাম। আজ আমার ছুটি না থাকলে আমাকেও ভোগান্তি পোহাতে হতো। আমি ভাবলেশহীন হেটে যাচ্ছি...

তালতলা পার হতেই জায়গাটা আমার খুবই পছন্দের। কারণ, ওখানে প্রচুর বাতাস হয়। আজকে বেশ শান্তি লেগেছে ওখানে। সত্যি প্রাণ জুড়িয়েছে।

আগারগাঁও মোড়ে যেতেই বৃষ্টি বেশ জোরে নামলো। এতটা পথ বাসে যেতে যেখানে ৫ মিনিট লাগে সেখানে হেটে অনেকটা সময়! তাই আর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই রাস্তা পার হয়ে হাটা শুরু করলাম। আবহাওয়া অফিসের সামনে এসে একটু তাকিয়ে বড় একটা হাসি দিয়ে চলতে থাকলাম। 

শামীম সরণিতে যখন, তখন ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো। মনে হলো, আজকে বের হওয়া ভুল হয়নি। সবাই যখন যে যার মতো দাঁড়িয়ে, আমিই শুধু হেটে চলেছি। 

শেওড়াপাড়া মেট্রো স্টেশনে আসতেই পা পিছলে গেলো। যদিও পড়িনি। তবে পড়লে খবর ছিল।

খুব করে মনে মনে চাচ্ছিলাম, পছন্দের চায়ের দোকানটা যেন খোলা থাকে। গলা এরই মধ্যে ভার হয়ে ছিল। দূর থেকে দেখতে পেলাম, চিপসের প্যাকেট ঝুলছে। আমাকে দেখেই উনি হাসলেন। বললাম, টাকা আনিনি। এক কাপ চা দেওয়া যাবে? জবাবে, অবশ্যই। সাথে এ-ও বললেন, আবার ঠান্ডা যেন না লাগে। আমি বললাম, লাগলেতো ভালোই। এই সুযোগে না হয় ছুটি নেওয়া যাবে! 

তখনো বৃষ্টি পড়েই যাচ্ছে। আমাকে চা দিয়ে উনি বললেন, বৃষ্টির মধ্যে চা খেতে ভালোই লাগবে।

চায়ের কাপ নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে গোল মরিচের তেজ ও বৃষ্টির স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় উষ্ণ চুম্বন উপভোগ করলাম ৫ মিনিট...


(তারিখ - ২৭ মে, ২০২৪)

Monday, January 31, 2022

ভ্যান-ডুয়েলিং ও মন খুলে কথা বলা

Nomadland সিনেমাটি দেখেছেন? সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন 'ফার্ন' নামের একজন নারী। যিনি পার্টটাইম কাজ করেন এবং তার ভ্যান নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। ভ্যানেই থাকেন। যারা স্থায়ীভাবে বা অস্থায়ী হলেও কিছু সময় গাড়িতে থাকেন তাদের ভ্যান-ডুয়েলার বলা হয়।


আমাদের দেশে যেসব মাইক্রোবাস দেখা যায় তারচেয়ে আকারে কিছু বড় এমন ভ্যান গাড়িকে নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে-গুছিয়ে নিয়ে থাকার উপযোগী করা হয়। আবার রেডিমেড কিনতেও পাওয়া যায়। যদিও আমাদের দেশের হিসেবে ভ্যান-ডুয়েলিং করা যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ। তবে যথেষ্ট রোমাঞ্চকর। 


বাংলাদেশে যদিও এর প্রচলন নেই। তবে বিদেশে বেশ জনপ্রিয়। যে জায়গায় ঘুমাচ্ছেন সেটাই মহাসড়কে চলছে! বিষয়টা ভালো লাগতে বাধ্য। আপনার সাথে যদি সঙ্গী থাকে তাহলেতো কথাই নেই। দেখা গেলো আপনি ঘুম থেকে উঠছেন, এদিকে গাড়ি চলছেই। আপনার সঙ্গীকে সুপ্রভাত জানিয়ে ব্রাশ হাতে নিয়ে সামনের আসনে বসে গেলেন। 


তবে স্থায়ীভাবে থাকা বেশ কষ্টের। বিশেষকরে পায়খানা ও গোসলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝামেলা হয়ে যায়। যদিও কিছু ভ্যানে ওয়াশিং মেশিনসহ ছোট আকারে গোসলখানারও ব্যবস্থা দেখেছি। তবুও কাজগুলো শান্তি মতো করতে পারবেন না।


ফিরে আসি ফার্নের কাছে। ফার্নের যথেষ্ট বয়স হয়েছে৷ উনি মোটামুটি স্থায়ীভাবেই ভ্যানে থাকতে শুরু করেন। একাই থাকেন। যখন অর্থের প্রয়োজন হয় তখন আমাজনের মতো বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেন। ততোটুকুই কাজ করেন যতোটা অর্থের প্রয়োজন। তিনি যে সমস্যায় পড়েন তা হল পার্কিং নিয়ে। কারণ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে রাতে পার্ক করার অনুমতি থাকে না। আবার বিভিন্ন জায়গায় পার্ক করার জন্য অর্থ দিতে হয়। এর অবশ্য একটা সমাধান আছে, আর তা হল ভ্যান-ডুয়েলারদের বিভিন্ন গ্রুপ আছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করা। তারা সাধারণত পাহাড়ের আশেপাশে সমতল ভূমিতে একত্রিত হয়। সেখানে কিছু সময় কাটায়। 


যদিও এটাও স্থায়ী সমাধান না। সাথে যখন ভ্যান থাকে তখন স্থানীয়ভাবে নির্দিষ্ট এক জায়গায় থাকার কোনো মানেও নেই। তবে এইসব জায়গায় থাকার একটা বড় সমস্যা হল পানি।


যাই হোক, সুবিধার কথায় আসি। এই গ্রুপগুলো অনেকটাই সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে। প্রতি সন্ধ্যায় ক্যাম্প-ফায়ারের আয়োজন করা হয়। নির্দিষ্ট কিছুদিনে বিনিময় ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়। অর্থাৎ আপনার তেমন একটা প্রয়োজন নেই এমন দ্রব্যের বিনিময়ে প্রয়োজনীয় কিছু একটা নেওয়া।


সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক যা লেগেছে তা হল, যখন ক্যাম্প-ফায়ার শুরু করা হয় তখন আগুনের চারিদিকে সবাই গোল হয়ে বসে। এদের মধ্যে যিনি বয়োজ্যেষ্ঠ বা এইক্ষেত্রে অভিজ্ঞ তিনি কিছু কথা বলেন তারপর একএক করে সবাই তাদের কথা বলেন। নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নেই। ধরুন আপনার জন্য পাঁচ মিনিট নির্ধারিত।  আপনি এই সময়ে আপনার জীবনের কথা বলতে পারেন বা কোনো চিন্তাভাবনা। অন্যদের ক্ষেত্রে তখন শর্ত একটাই, আর তা হল কোনো বাধা না দিয়ে ঐ পাঁচ মিনিট শুনে যাওয়া।


তাহলে এক ঘণ্টার একটা বৈঠক হলে আপনার পাঁচ মিনিট বাদে বাকি ৫৫ মিনিট আপনাকে শুনতে হবে। তাহলে বিষয়টি যা দাঁড়ায় - আপনি শুনতে শুরু করছেন। অন্যকে শ্রদ্ধা করছেন। শোনার মাধ্যমে আপনি অনেকজনকে জানতে পারছেন। যিনি বলছেন তিনি অনেক না বলা কথার কিছু কথা বলতে পারছেন। যেহেতু এখানে সবাই অপরিচিত তাই এটা ভাবতে হচ্ছে না যে কে কী ভাববে।


এই বৈঠকের পর যে যার মতো বসে গল্প করে। যেহেতু এই ভ্যান-ডুয়েলিংয়ে অন্যান্য নানাধরনের সুযোগসুবিধা থাকে না তাই বিনোদনের একটা বড় মাধ্যম হলো অন্যের সাথে কথা বলা। 


এই সিনেমায় যাদের দেখিয়েছে তাদের সবারই ব্যক্তি জীবনে বড়ধরনের দুঃখ ছিল। তাই কেউ কাউকে অশ্রদ্ধা করেনি। সবাই সবার কথা শোনার চেষ্টা করেছে। 


সিনেমাটি দেখে যা মনে হল, এভাবে কথা বললে স্থায়ীভাবে শান্তি/সমাধান পাওয়া যায় না। কারণ সমাধানের ক্ষেত্রতো এই ভ্যানলাইফ না। সমাধানের জন্য সমাজে ফিরতেই হবে, পরিবারে যেতেই হবে, কাছের মানুষের সংস্পর্শে আসতেই হবে। কিন্তু চিন্তাজগতে সেই ফিরে যাওয়ার তাগিদ দেয়। নতুন করে ভাবতে শেখায়। আপনার ভাবনায় শুধু হতাশাজনক ভাবনার পরিবর্তে ইতিবাচক কিছু ভাবতেও সাহায্য করে। 

Sunday, December 26, 2021

আনন্দ-উল্লাসের চেয়েও বেশি প্রয়োজন অকৃতকার্য বন্ধুর পাশে দাঁড়ানো

আর দুই-একের মধ্যেই একটি পাবলিক পরীক্ষার ফল বের হবে। এতে ফল বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিষ্টির দোকানে মিষ্টি শেষ হয়ে যাবে, পাড়া-মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়ে যাবে, ফোনে-ফোনে খুশির সংবাদ দেওয়া-নেওয়া চলবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "আই অ্যাম জিপিএ-ফাইভ" স্ট্যাটাস চলবে, ব্রডকাস্ট মিডিয়াগুলো ড্রাম বাজানো কিছু শিক্ষার্থীদের ঘিরে নাচানাচি করতে থাকা বাকিদের ভিডিও প্রতিটি সংবাদ বুলেটিনে দেখাবে, পরেরদিন সংবাদপত্রগুলো একসারি শিক্ষার্থীর "ভি" চিহ্নযুক্ত ছবি দিয়ে লিডনিউজ করবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। 


এইবিষয়গুলো যেমন খুবই সাধারণ,  অপরদিকে দেশজুড়ে কিছু শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেওয়ার বিষয়টিও সাধারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু আত্মহত্যাতো সাধারণ বিষয় হওয়ার কথা নয়!


তাহলে কমতি কোথায়? যারা আত্মহত্যা করছে তাদের দোষ দিবেন? এই ভুল ভুলেও করবেন না৷ সবার পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা এক নয় - এটি সবসময় মাথায় রাখবেন। 


তাহলে কী করা যেতে পারে? অনেককিছুই। 

যেকোনো সফলতার উল্লাস বা আনন্দ অবশ্যই করা উচিৎ।  কিন্তু অবশ্যই সেটা মার্জিত, পরিমিত। আমার পাশের ঘরে একজন অকৃতকার্য হয়েছে আর আমি দিব্বি গান ছেড়ে দিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে যাচ্ছি, তা কিন্তু মোটেই উচিৎ নয়। পারিবারিকভাবে ভালো খাবার আয়োজন করে একসাথে বসে খেলেও কিন্তু ঐ আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব।  


আপনি যেহেতু সফল হয়েছেন আপনি যদি এখন একা আপনার অকৃতকার্য বন্ধুর সাথে দেখা করতে যান তাহলে বিষয়টা তার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই একা না যেয়ে কয়েকজন মিলে একটা সময় ঠিক করে ঠিক ঐদিনই দেখা করে আসতে পারেন। বন্ধুকে পাশে পেলে অবশ্যই তার মনে যে ভাবনা চলছিলো তার কিছুটা হলেও পরিবর্তিত হবে। 


যে পাড়া বা মহল্লায় আপনারা অবস্থান করছেন সেখানে কয়েকজন অভিভাবক নিজ উদ্যোগে বাকি অভিভাবকদের একটু বুঝানোর চেষ্টা করা যেতে পারে৷ কারণ কিছু অভিভাবক আছেন যারা খারাপ ফল দেখলেই মুখে যা আসে তাই শুনিয়ে দিতে কৃপণতা করেন না। একইভাবে অন্যরা যেন কথায় কথায় এটা না বলে যে আমার সন্তান "জিপিএ-ফাইভ"। 


প্রতিটি ফলের পরেই সংশ্লিষ্ট কোচিং মোটামুটি একটা আয়োজন করে। সেখানে অল্পবিস্তর হলেও খরচ হয়। বিজ্ঞাপনে একটা বড় খরচ হয়৷ খরচটা এভাবে না করে কিছু ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে করা যেতে পারে। যারা ভালো ফল করেছে তাদের ঠিকানায় শুভেচ্ছা বার্তা চলে যেতে পারে। ফল প্রকাশের এক সপ্তাহ আগে থেকেই অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাউন্সেলিং সভা করা যেতে পারে। এতে যেটা হবে, শিক্ষার্থী একটি দ্বিতীয় চিন্তা (সেকেন্ড থট) করার সুযোগ পাবে। 


পরিশেষে ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শিক্ষকদের। যেহেতু তাদের হাতে সবার আগে ফল চলে আসে তাই তাঁদের হতে হবে সবচেয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল। ঐ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষক মিলে দুই-তিনটা দল গঠন করে দিবেন। যাঁরা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যেয়ে কথা বলবেন। ঐ শিক্ষার্থীর ও তার পরিবারের অবস্থা জেনে আসবেন। কৃতকার্য না হলেই যে জীবন শেষ নয় তা কিছুটা হলে বুঝানোর চেষ্টা করবেন। আর এই দেখা করার বিষয়টি যেন একাধিকবার হয় তা নিশ্চিত হয়।


আসুন, আমরা আমাদের পাশেরজনের কথা আগে ভাবি। একটু বিচক্ষণ পদক্ষেপ নেই।


(প্রথম আলোর একটি কলাপ পড়তে যেয়ে এই কথাগুলো মাথায় এসেছে। তাই উল্লেখ করলাম।)

Friday, April 16, 2021

৪১ বিসিএস পরীক্ষা ও স্মরণে "ছুটির ঘণ্টা" চলচ্চিত্র



৪১তম বিসিএস পরীক্ষা হয়েছে আজ চার সপ্তাহ হচ্ছে। আপনি ভাবতে পারেন এতোদিন পর আমি আবার কি বলতে চাচ্চি এই বিষয়ে! যারা এই বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন বা সামনের দিনে চাকরির পরীক্ষা দিবেন তাদের জন্য জরুরি কিছু নেই এখানে। আপনার সময় না থাকলে এড়িয়ে যেতে পারেন। 


কেন্দ্র দিয়েছিলাম রাজশাহী। সীট পড়েছিল গভঃ ল্যাবরেটরী হাই স্কুলের প্রধান বিল্ডিংয়ের ২৮ নং কক্ষে। বেশ আগেই কক্ষে হাজির হয়েছিলাম। আসন গ্রহণ করে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখলাম দু'টি বোর্ড টাঙানো - একটি ব্ল্যাকবোর্ড আর অন্যটি হোয়াইটবোর্ড। ব্ল্যাকবোর্ডে পঞ্চম শ্রেণি উল্লেখ করা ছিল আর একটি কবিতার অংশ লেখা ছিল। স্বাভাবিকভাবেই বলা যায় এটি গতবছরে শেষ যেদিন ক্লাস হয়েছিল সেদিনের কর্ম।


যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হল। এর আগে অনেকেই দেখলাম ওয়াশরুমে গিয়েছে। আমার প্রয়োজন পড়েনি। তবে পরীক্ষা অর্ধেকের বেশি শেষ হওয়ার পর মনে হল আমারও ওয়াশরুমে যেতে হবে। যদিও জরুরি না। 


পরীক্ষা শেষ হল। শিক্ষক সব গুছিয়ে নিয়ে আমরা যেতে পারি জানালেন। আমি কক্ষ থেকে বের হলাম। খুব ধীর গতিতেই এগুচ্ছি। ওয়াশরুম ঠিক কথায় সেটা আগেই নজরে এসেছিল। ওয়াশরুমে যেয়ে খুব একটা ভীড় ছিল না। কারণ তারা আগেই কাজ সেরেছে। আমি একদম শেষেরটায় গেলাম। একটু সময় লাগলো। এই যে একটু সময় লাগলো আর এর মধ্যেই বুঝতে পারছিলাম ওয়াশরুম পুরো ফাঁকা হয়ে গেছে। সবারই পরীক্ষা শেষে ফেরার একটা তাড়া ছিল নিশ্চয়ই! ঠিক সে সময় "ছুটির ঘণ্টা" চলচ্চিত্রের কথা মনে পড়লো। 


মনে পড়লো খোকনের অকাল পরিণতির কথা। আরো মনে পড়লো ব্ল্যাকবোর্ডে যদি একবছর আগের লেখা এখনো থাকতে পারে তাহলে এই ওয়াশরুম যদি চেক না করেই বিদ্যালয়ে তালা দেওয়া হয় তাহলে...!


খোকন ওয়াশরুমে ট্যাংকে থাকা পানি দিয়ে কিছুদিন বেঁচে ছিল। খোকনের ওয়াশরুম ছিল আগেকার আমলের। সেখানে যথেষ্ট জায়গা ছিল। কিন্তু আমি যেখানে ছিলাম সেতো সংকীর্ণ জায়গা। এদিকওদিক ঘুরতেই কষ্ট হয়ে যায়। বারবার মনে হচ্ছিলো এই বিদ্যালয়ের ট্যাংকে কি যথেষ্ট পানি আছে!


যদিও এর বিপরীতে এও মনে হচ্ছিলো যে, এরকম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধের যুগে প্রতিটি কক্ষ, ওয়াশরুম চেক না করে তালা দেওয়ার কথা না। তাছাড়া আমার দু'জন বন্ধু জানে আমার সীট কোথায় পড়েছে। আমি ঠিক সময় না পৌঁছালে তারা ঠিকই পুলিশের সাহায্যে আমাকে উদ্ধার করতে পারবে। তবুও পানির সাহায্যে কতটা সময় এই বদ্ধ ঘরে টিকে থাকতে পারবো তা বেশ করে ভাবাচ্ছিলো। 

Friday, December 18, 2020

পররাত্র

সামির অনেকটা ছটফট করতে করতেই এপাশ-ওপাশ হচ্ছে। দূর থেকে একটা শব্দ যেন তাকে ডাকছে। ধীরে ধীরে কাছে আসছে। আরও কাছে, একদম কানের কাছেই যেন কেউ একজন ডাকছে। ঘুম ভেঙ্গে গেল তার। সমস্ত শরীর ঘামছে। একটু স্বাভাবিক হতেই সে বুঝতে পারলো বেশ রাত থেকেই বিদ্যুৎ নেই। সেজন্য শরীর এভাবে ঘেমেছে। নিজেকেই বিড়বিড় করে সামির প্রশ্ন করলো – তাহলে শব্দটা কিসের?

প্রতিদিন ফজের নামাজের পর জানালা খুলে দিয়ে আবার ঘুমানো তার অভ্যাস। ফজরে নিয়মিত এ্যালার্ম দেয়। তখনই ফোনটা বেজে উঠলো। তখন সে বুঝতে পারলো শব্দটা কিসের ছিল। নিয়মের ব্যাঘাত ঘটিয়ে আজকে সামির নামাজ শেষে জানালা না খুলেই দেয়ালে হেলান দিয়ে খাটে বসে থাকলো সকাল পর্যন্ত।

সকাল থেকে রেদওয়ান ৪ বার ফোন দিয়েছে। একবারও ফোন ধরেনি সামির। সকালের আলো যখন বাড়তে শুরু করলো তার মনে পড়লো আজ রেদওয়ানের আসার কথা ছিল। কিন্তু সে ভুলেই গেছে।

আবার সে চিন্তা করতে লাগলো - তার সাথে এসব কি হচ্ছে আজ! আগে কখনই এমন হয়নি তার সাথে।

রেদওয়ানের সকালে আসার কথা থাকলেও সকালে আসবে না। আসবে দুপুরের দিকে। এ নিয়ে সামিরের বেশ মন খারাপ। কয়েকদিন ধরেই সে রেদওয়ানের জন্য অপেক্ষায় আছে। মনের সমস্ত জমানো কথা রেদওয়ানকে বলার জন্য ব্যাকুল।

সামির বেশ কয়েকদিন ধরেই কি নিয়ে যেন সারাক্ষণ চিন্তা করে। কিন্তু কাকে কথাগুলো বলবে তা ঠিক করতে পারছিলো না। রেদওয়ান তার খুব কাছের বন্ধু। তৃতীয় শ্রেণি থেকেই তার সাথে পরিচয়। তারপর থেকেই একে ওপরের মনের কথা আদানপ্রদান করা। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে দুজনে অনেক কথা একেঅপরকে বলেছে। কিন্তু এবার সামিরের কেন যেন সংকোচ লাগছে কিছু বলতে।

সারারাত ভেবেছে কীভাবে তার বন্ধুকে কথাগুলো বলবে! কতটা বলবে! এইসব চিন্তা করতে করতেই সামির যে কখন ঘুমিয়েছিলো রাতে!

সামিরের ডাক পরলো। মা ডাকছে। নাস্তার জন্য,

- সামির নাস্তা খেতে আয়। তোর পছন্দের নুডুলস রান্না করেছি।

- আসছি মা। ফ্রেস হয়ে আসছি।

- এখনো ফ্রেস হসনি! কি ভাবিস এতো? কাল থেকে দেখছি উদাস হয়ে আছিস। কি হয়েছে বলতো।

(সামির নিজেকে সামলে নিয়ে) - না মা, কিছু হয়নি। পরশু যাচ্ছিতো, এইবার অনেকদিন থাকলাম, তা ভেবেই মন খারাপ।

- হয়েছে, হয়েছে! আর মন খারাপ করে থাকতে হবে না। তাড়াতাড়ি কর। (মা ঠিকই বুঝতে পেরেছে কিছু একটা হয়েছে।)


মা-বাবার সাথে অনেক গল্প করতে করতে নাস্তা শেষ করে চা বানাতে গেল সামির। সে না থাকলে মা-বাবার চা ঠিক মত খাওয়া হয় না। মা তখনই বলে উঠলো, তুই নেই, চা খাই কিভাবে! সব সময়তো তুই চা বানাস।

সামিরের চোখ ছলছল করে উঠলো। নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে একটু উঁচু গলায় সে বললো, হ্যাঁ, হ্যাঁ, হয়েছে। আর বলতে হবে না। বলো যে, আলসেমি করে চা বানিয়ে খাও না। এই বলে সে রান্না ঘরে গেল।

টিভির রুমে একসাথে চা খাচ্ছে আর খবর দেখছে। সামিরের ভাই নেই, গতকাল ঢাকায় ফিরেছে। সামির চা মুখে দিয়ে মনে মনে ভাবছে, চা যে খুব ভাল হয়েছে তাতো না। তাও কেন সবাই প্রশংসা করে!


বুক সেলফ থেকে শীর্ষেন্দু'র সোনার মেডেল বইটা নিয়ে নিজ রুমে গেল। বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে অপেক্ষা করছে রেদওয়ানের জন্য। এক নিমিষেই বইটার বেশ কয়েক পাতা পড়ে শেষ করলো। ইদানিং সামিরের গল্পের বই পড়ার নেশা খুব ধরেছে। যদিও আর অল্প কিছুদের মধ্যেই অনার্স জীবন শেষ করতে যাচ্ছে সে। সে হিসেবে পড়ার নেশায় ধরা রোগ বেশ দেরিতেই শুরু হয়েছে বলা যায়। কিন্তু তাতে কি! সামির পড়ার মুহূর্ত বেশ উপভোগ করে। রাতের হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া, কয়েকদিনের চিন্তা - এই বিষয়গুলো ভুলে থাকতে পেড়েছে বই পড়ে।

বইটির ঠিক কোথায় ছেড়েছে তা না দেখেই সামির দৌড় দিয়ে মার কাছে গেল। মা তার দৌড়ানো দেখে বললো, কী হয়েছে বাবা। সামির বললো, একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। আজকে সকালে রেদওয়ানের আসার কথা ছিল। কিন্তু সে সকালে আসবে না। বলেছে যে দুপুরের দিকে আসবে। তাই যাই রান্না কর না কেন একজনের জন্য বেশিই রান্না কর। মা বললো, আচ্ছা। এই বলে মা মুচকি হাসলেন।

সামির তার ঘরে যাওয়ার সময় মাথায় একটা বাড়ি দিয়ে বিড়বিড় করলো, বইটাতে মার্ক করা হয়নি। আচ্ছা সমস্যা নেই, বইটাতো ছোটই। খুঁজে নিতে সমস্যা হবে না। সে ঘরে না গিয়ে সোজা ছাঁদে চলে গেল। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করবে।

সামিরদের বাসায় কলিং বেল লাগানো নেই। কেউ আসলে সাধারণত দরজায় ঠোকা দেয়। কিন্তু ছাঁদ থেকেই শোনা গেল কেউ সামির, সামির করে ডাকছে। গতকাল থেকে সামির যার অপেক্ষায় ছিল সে এসেছে। ছাঁদ থেকে নামতেই দুজনের দেখা হয়ে গেল। একেঅপরকে কোলাকুলি করলো তারা। তারপর সরাসরি দুজন সামিরের ঘরে ঢুকলো।

এমন নয় যে বেশ অনেকদিন পর রেদওয়ানের সাথে দেখা হচ্ছে। কিন্তু মনটা খারাপ থাকায় সামির তার বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য বেকুল ছিল। খাটে দুজন বসতেই সামির গতকালসহ কয়েকদিনের মন খারাপের কথা জানালো। রেদওয়ান মুখের উপর সরাসরি বলেই ফেললো, ধুর মিয়া! তোমার খালি মন খারাপ হয়। এতো মন খারাপ কর কেন? বড় হইছোতো। এখন এইগুলাকে নিজে থেকেই সামাল দিতে হয়। সামির এধরনের কথা শুনতে অপ্রস্তুত ছিল। বিষয় ও মুহূর্তটাকে কাঁটানোর জন্য সামির বললো, চা না কফি। রেদওয়ান বললো, কফি। সামির কফি বানানোর জন্য রান্না ঘরের দিকে চলে গেল।

অন্য সময় কফি বানানোর জন্য পানি গরম দিয়ে সামির আবার ঘরে এসে বন্ধুদের সাথে কথা বলে। বারবার যেয়ে দেখে আসে। কিন্তু আজকে একবারের জন্যও রান্নাঘর থেকে বের হয়নি। রান্নাঘরেই নানা চিন্তা করছিলো। রেদওয়ানের কাছ থেকে এরকম ব্যবহার তার খুব খারাপ লেগেছে। রেদওয়ানই একমাত্র বন্ধু যার কাছে আলাদাভাবে কিছু কথা শেয়ার করতে পারে সামির। কিন্তু আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পাড় করছি দেখে এভাবে কথা বলবে তা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। কালকে থেকেই অনেক অপেক্ষায় ছিল বন্ধুর কাছে কথাগুলো বলে কিছুটা হালকা হবে। কিন্তু এই আচরণের পর শেয়ার করার কোনো প্রশ্নই উঠে না। তাই সামির ঠিক করলো, সে রেদওয়ানকে তার মন খারাপের মূল কারণ বলবে না। রেদওয়ান যদি কিছু জানতেই চায় তাহলে সে রাহার কথা বলে কাঁটিয়ে দিবে।

সামির কফি নিয়ে তার ঘরে ঢুকলো। রেদওয়ানকে কফি এগিয়ে দিল। রেদওয়ান প্রথম সুযোগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিল। তাই তার বিএসসি এতদিনে শেষ। তার চাকরি ভালো লাগতো না বিধায় একটা ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেছে। সে বিষয়েই কথা বলে যাচ্ছিল সে। সামির তার কথা শুনে যাচ্ছে। মনে মনে এখনো আশা রেখেছে যে, রেদওয়ান সেই আগের মত তাকে জিজ্ঞেস করবে – কি হয়েছে বন্ধু? কি নিয়ে ভাবছিস এত! আমাকে খুলে বল। কিন্তু না, রেদওয়ান তার ব্যবসা ও নিজের কথাই বলে যাচ্ছে।

রেদওয়ানের কথাগুলো কেন যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। কানে আসছে না তার শব্দ। এখন কানে বাজছে রাহার সাথে গতকালের হওয়া কথোপকথন।

- খুবই হাস্যকর বিষয়।

- মোটেই না।

- তাহলে এতো হাসছো কেন?

- বাহিরের লোকজন যাতে আমার কষ্টটা বুঝতে না পারে।

- লোকদেখানো?

- বলতে পারো।

- তুমিতো এমন ছিলানা।

- এখন হয়েছি। তাতে কি?

- এমনটা কেন?

এরপর আর কথা এগোইনি। সামিরের নিজেরও কথা বলতে ইচ্ছা করেনি।

সামির একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চিন্তা করে, লোক দেখানো বিষয় সে কখনই বুঝতো না। নিজে কখনও লোকদেখানো কাজ করতেও পারতো না। কিন্তু আজ পারে। অস্পষ্ট ভাষায় বলে ফেললো, তোমার কাছ থেকেইতো শিখেছি, রাহা।


রেদওয়ান - কি বলো ফিসফিস করে।

সামির - কিছু না।


আবার নিজের দুনিয়ায় চলে যায় সামির। ভাবতে থাকে, দুনিয়াটা প্রকৃত পক্ষ্যেই এতোটা নিষ্ঠুর, নাকি আমরা নিজেরা দুনিয়াটাকে নিষ্ঠুর বানিয়েছি!

রাহা প্রয়োজন ছাড়া সামিরকে ফোন দেয় না। শুধু প্রয়োজনের সময়ই সামিরের ফোনে রাহার নাম ভেসে ওঠে। সামির এ নিয়ে রাহাকে অনেক কথা শুনিয়েছে, অনেক কথা জিজ্ঞেস করেছে। কিন্তু রাহা কোনো উত্তর দেয় না। চুপ থেকে, কোনো একটা বাহানা করে ফোন কেঁটে দেয়। সামির বারবার ফোন দিয়ে নিজেই ক্লান্ত হয়ে নিজেকে সংযত করার চেষ্টা করে। কিন্তু সামিরের জীবনতো রাহাকে ছাড়া চলবে না। তাই শত অপমান, অবহেলা সত্ত্বেও সে রাহার পিছু পিছু ঘুরতে থাকে। রাহা প্রয়োজনমাফিক সামিরকে পাত্তা দেয়, আর বাঁকিটা সময় শুধুই অবহেলা করে।

চিন্তার ঠিক এ পর্যায়ে সামিরের কাঁধে হাত রাখে রেদওয়ান। বলে, আমাকে এখন যেতে হবে। সামির তার বন্ধুকে আরেকটু থাকার অনুরোধ করতে যেয়েও থেমে গেল। একটু রাগ করেই হয়তো আর কথা বললো না সে। বরং তাকে বিদায় জানিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে সেই বইটা হাতে নিল। কিন্তু এখন সে পড়ছে না। আবার ভাবছে। ভাবছে, এতক্ষণ যে রাহার কথা মাথায় এসেছিল তা যদি রেদওয়ানকে বলতো তাহলে নির্ঘাত সে এটাকেই মূল কারণ হিসেবে ধরে নিত। রেদওয়ানের যেহেতু কিছু শোনার আগ্রহই ছিল না, তাই না বলে ভালোই হয়েছে। এমনিতেই যে ব্যবহার করেছে তা এখনো সে মাথা থেকে সরাতে পাড়ছে না।

এভাবেই এটা-ওটা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো। সামির নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে টিভির ঘরে গেল। মা টিভি দেখছে। মাকে জিজ্ঞেস করলো, চা খাবা। মা না করলো না। সামির যেহেতু চলে যাবে তাই দুজনে একসাথে বসেই চা খেল। অন্য সময় সামির নিজের ঘরেই খেয়ে থাকে।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সামিরের আবার চিন্তাগুলো মাথায় আসতে শুরু করেছে। সে নিজেকে বারবার প্রশ্ন করতে থাকলো, রাহা যদি আমার মূল সমস্যা না হয়ে থাকে তাহলে সমস্যাটা কোথায়! এটাই বারবার নিজেকে জিজ্ঞেস করতে থাকলো। একসময় বিরক্ত হয়ে একটা সিনেমা দেখা শুরু করলো। সিনেমা চলতে চলতেই ঘুমিয়ে পড়লো সে।

পরদিন ভোরেও একইভাবে তাকে কোনো একটি শব্দ বারবার ডেকে যাচ্ছে। ছটফট ভাব নিয়েই সামির ঘুম থেকে উঠে ফোনে বাজতে থাকা অ্যালার্ম বন্ধ করলো।

 

 

Tuesday, October 6, 2020

কুইবি, মোবাইল স্ট্রিমিং সার্ভিস

 


কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা মোবাইলফোন যে প্ল্যাটফর্মের কথাই বলা হোক না কেন, স্ট্রিমিং সেবায় প্রথম যে নাম স্মরণে আসবে তা হল নেটফ্লিক্স। সেটাকে কুইবি (Quibi) কতটা টক্কর দিতে পারবে তা ভাবার প্রয়োজন নেই। কারণ, কুইবির টার্গেটেড প্ল্যাটফর্ম হল মুঠোফোন। তবে তারা যথেষ্ট আশাবাদী। 


আশাবাদী হওয়ার মূল কারণ হল, তারা স্ট্রিমিং সেবায় কিছু ভিন্নদিক নিয়ে কাজ করেছে। যেহেতু তাদের টার্গেট মুঠোফোন, তাই এই মাধ্যমে যাতে একজন দর্শক তাদের সুবিধামত ভিডিই সেবা উপভোগ করতে পারেন তা পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিশেষ করে মুঠোফোনে ভিডিও দেখার সময় যে সমস্যায় সবচেয়ে বেশি পরতে হয় তা হল স্ক্রিন রোটেটিং। 


আপনি হয়তো যখন দাঁড়িয়ে বাসে করে যাচ্ছেন তখন ল্যান্ডস্কেপে রেখে ফোন সামলানো আর কন্টেন্ট উপভোগ একসাথে করা কিছুটা কষ্ট কর। সেক্ষেত্রে পোর্ট্রেট অবস্থাতেই বেশি সুবিধাজনক। আবার যখন বসার সিট পেলেন তখন ইচ্ছা করবে এখন সম্পূর্ণ পর্দায় ভিডিওটি দেখার। এই দু'য়ের মধ্যে পরিবর্তন করার সময় যে কন্টেন্ট চালু ছিল তা সমানভাবে পূর্ণ পর্দায় উপভোগ করা সম্ভব না। ঠিক এ জায়গাতেই কুইবি ভেবেছে।


যখন স্ক্রিন রোটেট করা হবে তখন ফুল স্ক্রিন থেকে বের হবে না। চলতে থাকবে সারা পর্দাজুড়েই। প্রশ্ন আসতেই পারে এতেতো কন্টেন্ট ক্রোপ হয়ে যাবে। হ্যাঁ, তা যাবে। তা করলে যে সম্পূর্ণ পর্দা রাখা সম্ভব না। কিন্তু এখানেই ব্যবহার করা হবে বিশেষ প্রযুক্তি। আপনি হয়তো সিনেমা দেখছেন। সিনেমার এক দৃশ্যে দু'জনের মধ্যে কথোপকথন হচ্ছে। এই অবস্থায় স্ক্রিন রোটেট করে পোর্ট্রেট মোডে আনলেন। তখন মূলত ভিডিওটি জুম ইন হয়ে ঠিক এমন জায়গায় ফোকাস করবে যেখানে ব্যক্তিদ্বয় কথা বলছিলেন। এতে ঐ দৃশ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পরবে না। আপনার উপভোগটিও পূর্ণ পর্দায় থাকবে।


এই প্রক্রিয়াটি এমনভাবে হবে যে, পার্থক্য বুঝতে পারাটা কঠিন হয়ে যাবে। তবে এটি সম্পূর্ণ হতেও ভিডিও কন্টেন্টগুলো তৈরিও করতে হবে ভিন্ন প্রযুক্তিতে। এতে খরচের পরিমাণও বেড়ে যাবে। তবে এবছরের এপ্রিলে যাত্রা শুরু করা কোম্পানিটির কর্ণধার মনে করেন, গ্রাহক পর্যায়ে সাবস্ক্রিপশন ফি কম রেখেও কিছিদিন পর এর থেকে লাভ করা সম্ভব।

Friday, May 29, 2020

অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম সম্পর্কিত কিছু সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন

Image source - The Daily Star 

জামাল নজরুল ইসলাম স্যার সম্পর্কে ঠিক কবে জেনেছি তা মনে নেই। তবে এটুকু বলতেই পারি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়তে গিয়েছি তখন নামটি ঠিক চোখে পড়েছে।

স্যার সম্পর্কে জানার আগ্রহ জন্মেছে খুব বেশি দিন হয়নি। এর আগে শুধু জানা ছিল যে, উনি অনেক টাকার চাকরি ছেঁড়ে দিয়ে দেশে এসে শিক্ষকতা করেছেন। এরপর ২/৩টি ফেসবুক পোস্ট থেকে অল্পবিস্তর জেনেছি। যতটুকুই জেনেছি তাতে বারবার মনে হয়েছে - এতো বড় মাপের একজন ব্যক্তিকে তাঁর কর্ম অনুযায়ী কেন মূল্যায়ন করা হয় না! বড় অবহেলা করা হয়েছে!

ঠিক এরকম ভাবনা থেকেই স্যার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার ইচ্ছা জাগে। তাছাড়া আমি যেহেতু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তাই হয়তো আলাদা একটা টান অনুভব করি।
প্রথম চাহিদা মিটিয়েছে 'বিজ্ঞানচিন্তা' ম্যাগাজিন। এর বেশ কিছু দিন পর ইচ্ছা জাগে স্যার সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে কী লিখা আছে তা জানার। 

গুগল সার্চ বারে যেয়ে স্যারের নাম লিখে প্রথম যে কয়েকটি লিংক পেয়েছি তা পর্যায়ক্রমে পড়তে থাকি। যা আমার জানার চাহিদা অনেকটাই মিটিয়েছে। এরপর মনে হল, এগুলো একসাথে করে রাখলে যেকোনো প্রয়োজনে কাজে লাগানো যাবে।

(প্রতিবেদন গুলো প্রকাশিত হওয়ার সময় অনুযায়ী পরপর রাখা হয়েছে। প্রথমে শিরোনাম, শিরোনামে লিংক যুক্ত করা আছে, এরপর সংবাদ মাধ্যমের নাম এবং প্রকাশকাল।)


বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম-এর সাক্ষাৎকার - আর্টস বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.২৪ - ২০০৮/০১/২৭

বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম আর নেই - প্রথম আলো - ২০১৩/০৩/১৬

প্রয়াত অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম - বিবিসি বাংলা - ২০১৩/০৩/১৬

বিজ্ঞানী ড. জামাল নজরুল ইসলাম আর নেই - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম - ২০১৩/০৩/১৬






Remembering Professor Jamal Nazrul Islam - The Daily Star - 2018/04/03




জামাল স্যারকে যেমন দেখেছি - প্রথম আলো - ২০২০/০২/২৪


Tuesday, May 12, 2020

ক্যাম্পাসের এক-একটা দিন

এক-একটা দিন ক্যাম্পাসে যাওয়া মানে - দিনের শুরুতে করা রুটিনের ভাঙ্গন।

এক-একটা দিন ক্যাম্পাসে যাওয়া মানে - বন্ধুকে জানিয়ে দেয়া, আমার জন্য সিট রাখিস।

এক-একটা দিন ক্যাম্পাসে যাওয়া মানে - আজ বসে যেতে পারবো, নাকি দাঁড়িয়ে যেতে হবে এই ভাবতে থাকা।

এক-একটা দিন ক্যাম্পাসে যাওয়া মানে - আমি গিয়েছি বলেই আজ ক্লাস হলো না, আক্ষেপ করা।

এক-একটা দিন ক্যাম্পাসে যাওয়া মানে - ক্লাসের ফাঁকে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ানো।

এক-একটা দিন ক্যাম্পাসে যাওয়া মানে - খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম করা।

এক-একটা দিন ক্যাম্পাসে যাওয়া মানে - শাটলে একে অন্যের ঘাম ভাগাভাগি করে নেয়া।

এক-একটা দিন ক্যাম্পাসে যাওয়া মানে - অসহ্য পায়ে ব্যথা নিয়ে বাড়ি ফেরা।

এক-একটা দিন ক্যাম্পাসে যাওয়া মানে - বাসায় এসে ঘুমের রাজ্যে হাবুডুবু খাওয়া।

এক-একটা দিন ক্যাম্পাসে যাওয়া মানে - এর পরে ছুটি কবে তা বারবার ক্যালেন্ডারে দেখা।


(এভাবে আরো অসংখ্য বিষয় যোগ করা সম্ভব ক্যাম্পাসের এক-একটা দিনে)

Thursday, May 16, 2019

বড় ভাইয়ের নজরদারির অভিনব কৌশল

বড় ভাই - আচ্ছা, বড় ভাইয়ের কাজ কি সবসময় নজর রাখা? বড় ভাই হিসেবে সবসময় নজর রাখতেই পারে। বড় ভাই যেহেতু হয়েছে, নজর রাখা তার ক্ষমতার মধ্যে পরে। কিন্তু ব্যক্তি স্বাধীনতা, ইচ্ছা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তায় যদি হস্তক্ষেপ করে তাহলে? তাহলে লাগবেটা কেমন?
আমি বড় ভাইয়ার কথা বলছি না। আমি Big Brother এর কথা বলছি। Big Brother is watching you. আশা করি খোলাসা করে আর বলতে হবে না। কিন্তু সেতো অনেক আগের কথা। বড় ভাই এখনও নজর রাখছে। বড় ভাইয়ের নজর রাখার ধরন পাল্টেছে। সে এক অভিনব কায়দা।
চেহারা সনাক্তকারী প্রযুক্তি - ক্যামেরা আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণে নজরদারির নতুন এক কৌশল। এতদিন পর্যন্ত যা ছিল - শপিং মল, অফিস, বিভিন্ন ভবন, দোকানপাট ইত্যাদিসহ নানা জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো থাকতো। ২৪*৭ এর ভিত্তিতে ভিডিও চিত্র ধারন হতে থাকে। প্রয়োজন, অপ্রয়োজনে নজর রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে, আর ক্যামেরা তার নিজের মত করে সেই চিত্র ধারন করে যাচ্ছে। কোনো বড় ধরনের ঘটনা ঘটলে তারিখ সময় অনুযায়ী চিত্র বের করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
চেহারা সনাক্তকারী প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে এই সিসিটিভি ক্যামেরার উপর ভর করে নিজে থেকেই চিনে নিচ্ছে ব্যক্তিদের পরিচয়। সে না হয় বুঝলাম সত্যি অভিনব প্রযুক্তি। সমস্যাটা হল প্রযুক্তিটি যে শুধু নীতিনির্ধারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থারাই  ব্যবহার করবে, অন্যরা করবে না তার কি নিশ্চয়তা? মানলাম সব কিছুরই ভালো-খারাপ দিক থাকে। বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র বিষয় ত্যাগ করাই যায়। এত বড় প্রযুক্তি যখন প্রয়োগ করা হবে তখন এর ফাঁকফোকর নিশ্চয় বন্ধ করা হবে। ঠিক আছে, মানলাম।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি এখন বলপ্রয়োগ করে একটা কিছু মানতে? দাঁড়ান, আইন প্রয়োগ করার যেমন ক্ষমতা আছে, বল প্রয়োগেরও ক্ষমতা আছে। আইন কি আর বল কি, জোর করে প্রয়োগ করাটা হল আসল কথা। এখন আসি আসল ঘটনায়। যুক্তরাজ্যে প্রযুক্তিটি পুলিশ ব্যবহার করছে। বিবিসির একটি ভিডিওতে দেখলাম, পূর্ব লন্ডনে পুলিশ রাস্তার পাশে একটি কাভার্ড ভ্যানের উপর দুইটি বিশেষ ক্যামেরা বসিয়ে রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারীদের স্ক্যান করছে। যা তাদের ডাটাবেসের সাথে মিলিয়ে দেখবে। একজন ব্যক্তি তার চেহারার কিছু অংশ ঢেকে হেঁটে যাচ্ছিল। পুলিশ তাকে আটকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কারণ ক্যামেরায় তার চেহারা সনাক্ত করা যাচ্ছিল না। লোকটির কথা হল, আমি যদি আমার চেহারা ঢেকে রেখে হাঁটতে চাই তাহলে সেটি করার অধিকার আছে (সম্পূর্ণ ঢেকে রাখেনি। খুব শীত, তাই হয়তো নাক ঢেকে রেখেছিল)। এ নিয়ে পুলিশের সাথে লোকটির বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে খারাপ আচরণ করার জন্য তাকে ৯০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়।
এ নিয়ে পুলিশের বক্তব্য হল, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কাজটি করা হচ্ছে। কারণ ঐদিনে চেহারা সনাক্তের মাধ্যমে তিনজনকে আটক করা হয়েছিল।
এখন, চেহারা সনাক্তকারী প্রযুক্তির কারণে কি আমাকে সবসময়ের জন্য সম্পূর্ণ মুখ খুলে চলতে হবে? সে না হয় চললাম, কিন্তু যাদের মাস্ক পড়াটা খুব জরুরী, সাইনাসের সমস্যা আছে, হাঁপানি আছে তারা কি ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সম্পূর্ণ চেহারা উন্মোচন করবে? ইতোমধ্যেই এই প্রযুক্তি নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। আন্দোলন হচ্ছে। যারা এর বিপক্ষে তাদের মত, প্রযুক্তিটি সময়োপযোগী নয়।
সে যাইহোক, সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হতে এখনও অনেক দেরি আছে। আর যাইহোক, এই কথা কখনো ভোলা যাবে না - Big Brother is watching you.

Friday, April 19, 2019

যাত্রা শুরু...

একটি সিভি সমৃদ্ধ করতে অনেকগুলো বিষয় যুক্ত করতে হয়। প্রযুক্তি যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, সিভিতে যুক্ত করার বিষয়েও পরিবর্তন হচ্ছে। প্রয়োজনের তাগিদেই এখন ফেসবুক বা লিংকডইন প্রোফাইল যুক্ত করা হয় সিভিতে। অনেকের পরামর্শ থাকে - নিজের একটি ওয়েবসাইট থাকলে নাকি অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকা যায়। আমি অবশ্য সেরকম কোনো চিন্তা থেকে এই সাইটটি খুলছি না। খুললাম ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। আবার অনলাইন থেকে কিছু টাকা আয়ের চিন্তাও বাদ যায় নি।
সে যাই হোক, নিজের একটি ওয়েব ঠিকানা থাকলে আসলেই অন্যদের থেকে আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা বেঁচে।


এই পোস্টটি লিখছি সাইটটির যাত্রা শুরুর স্বাক্ষর হিসেবে।




মারিফুল হাসান
২০ এপ্রিল ২০১৯
রাত ২টা ৫২

Some Recent Posts

রুমাল ও চাবির গল্প

রাতে না খেয়ে ঘুমিয়েছিলাম। দীর্ঘ ঘুম। সকালে উঠেই দেখি হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। সেদিকে নজর না দিয়ে কিছু খেতে হবে এই চিন্তা শ...