Monday, May 27, 2024

রুমাল ও চাবির গল্প

রাতে না খেয়ে ঘুমিয়েছিলাম। দীর্ঘ ঘুম। সকালে উঠেই দেখি হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। সেদিকে নজর না দিয়ে কিছু খেতে হবে এই চিন্তা শুরু করলাম। রান্নাঘরে যেয়ে দেখি ব্যবস্থা আছে। গরম করে সিরিজ ছেড়ে দিয়ে শুরু করলাম। 

তখন মনে হলো, এই বৃষ্টিতে ভেজা যায়। একটু ভেবেই সিদ্ধান্ত নিলাম, বের হব। আজতো ছুটি। 

কিন্তু যখন বের হব তখন বৃষ্টি নেই বললেই চলে। তবুও বের হতে ইচ্ছা হলো। খুব ইচ্ছা হচ্ছিল মোবাইল সঙ্গে না নেওয়ার। তাই করলাম। মানিব্যাগও না। নিলাম শুধু রুমাল ও চাবি।

তখন যে বৃষ্টি হচ্ছিল না বললেই চলে, তবুও বের হয়ে ভালোই লাগছিল। ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাস হচ্ছিল। প্রতিদিন ব্যস্তভাবে যে রাস্তা দিয়ে যাই সে রাস্তা দিয়েই গেলাম। আজ সবাই ব্যস্ত, আমি ছাড়া। 

এই সময় একটু বৃষ্টি শুরু হলো। দেখি, একটি কাঁঠাল গাছে একটি কাঁঠাল ঝুলছে। একটি গাছে একটি কাঁঠালের এই ভেজা দৃশ্য দেখে মনে হলো, সুন্দর একখান ছবি হতো। ক্যাপশনে লিখা যেত, একাকিত্বের একরাশ অশ্রুসিক্ত দিন...

মূল রাস্তার কাছে যেতেই দেখি সবাই বাসে উঠতে ব্যস্ত। যে বাসগুলো যাচ্ছে, সেগুলোর প্রায় সবই মানুষে ঠাসা, দরজায় ঝুলছে। কারণ, মেট্রো চলছে না। বেশিরভাগই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষায়। একটু আনন্দই পেলাম। আজ আমার ছুটি না থাকলে আমাকেও ভোগান্তি পোহাতে হতো। আমি ভাবলেশহীন হেটে যাচ্ছি...

তালতলা পার হতেই জায়গাটা আমার খুবই পছন্দের। কারণ, ওখানে প্রচুর বাতাস হয়। আজকে বেশ শান্তি লেগেছে ওখানে। সত্যি প্রাণ জুড়িয়েছে।

আগারগাঁও মোড়ে যেতেই বৃষ্টি বেশ জোরে নামলো। এতটা পথ বাসে যেতে যেখানে ৫ মিনিট লাগে সেখানে হেটে অনেকটা সময়! তাই আর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই রাস্তা পার হয়ে হাটা শুরু করলাম। আবহাওয়া অফিসের সামনে এসে একটু তাকিয়ে বড় একটা হাসি দিয়ে চলতে থাকলাম। 

শামীম সরণিতে যখন, তখন ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো। মনে হলো, আজকে বের হওয়া ভুল হয়নি। সবাই যখন যে যার মতো দাঁড়িয়ে, আমিই শুধু হেটে চলেছি। 

শেওড়াপাড়া মেট্রো স্টেশনে আসতেই পা পিছলে গেলো। যদিও পড়িনি। তবে পড়লে খবর ছিল।

খুব করে মনে মনে চাচ্ছিলাম, পছন্দের চায়ের দোকানটা যেন খোলা থাকে। গলা এরই মধ্যে ভার হয়ে ছিল। দূর থেকে দেখতে পেলাম, চিপসের প্যাকেট ঝুলছে। আমাকে দেখেই উনি হাসলেন। বললাম, টাকা আনিনি। এক কাপ চা দেওয়া যাবে? জবাবে, অবশ্যই। সাথে এ-ও বললেন, আবার ঠান্ডা যেন না লাগে। আমি বললাম, লাগলেতো ভালোই। এই সুযোগে না হয় ছুটি নেওয়া যাবে! 

তখনো বৃষ্টি পড়েই যাচ্ছে। আমাকে চা দিয়ে উনি বললেন, বৃষ্টির মধ্যে চা খেতে ভালোই লাগবে।

চায়ের কাপ নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে গোল মরিচের তেজ ও বৃষ্টির স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় উষ্ণ চুম্বন উপভোগ করলাম ৫ মিনিট...


(তারিখ - ২৭ মে, ২০২৪)

No comments:

Post a Comment

Some Recent Posts

রুমাল ও চাবির গল্প

রাতে না খেয়ে ঘুমিয়েছিলাম। দীর্ঘ ঘুম। সকালে উঠেই দেখি হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। সেদিকে নজর না দিয়ে কিছু খেতে হবে এই চিন্তা শ...