কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা মোবাইলফোন যে প্ল্যাটফর্মের কথাই বলা হোক না কেন, স্ট্রিমিং সেবায় প্রথম যে নাম স্মরণে আসবে তা হল নেটফ্লিক্স। সেটাকে কুইবি (Quibi) কতটা টক্কর দিতে পারবে তা ভাবার প্রয়োজন নেই। কারণ, কুইবির টার্গেটেড প্ল্যাটফর্ম হল মুঠোফোন। তবে তারা যথেষ্ট আশাবাদী।
আশাবাদী হওয়ার মূল কারণ হল, তারা স্ট্রিমিং সেবায় কিছু ভিন্নদিক নিয়ে কাজ করেছে। যেহেতু তাদের টার্গেট মুঠোফোন, তাই এই মাধ্যমে যাতে একজন দর্শক তাদের সুবিধামত ভিডিই সেবা উপভোগ করতে পারেন তা পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিশেষ করে মুঠোফোনে ভিডিও দেখার সময় যে সমস্যায় সবচেয়ে বেশি পরতে হয় তা হল স্ক্রিন রোটেটিং।
আপনি হয়তো যখন দাঁড়িয়ে বাসে করে যাচ্ছেন তখন ল্যান্ডস্কেপে রেখে ফোন সামলানো আর কন্টেন্ট উপভোগ একসাথে করা কিছুটা কষ্ট কর। সেক্ষেত্রে পোর্ট্রেট অবস্থাতেই বেশি সুবিধাজনক। আবার যখন বসার সিট পেলেন তখন ইচ্ছা করবে এখন সম্পূর্ণ পর্দায় ভিডিওটি দেখার। এই দু'য়ের মধ্যে পরিবর্তন করার সময় যে কন্টেন্ট চালু ছিল তা সমানভাবে পূর্ণ পর্দায় উপভোগ করা সম্ভব না। ঠিক এ জায়গাতেই কুইবি ভেবেছে।
যখন স্ক্রিন রোটেট করা হবে তখন ফুল স্ক্রিন থেকে বের হবে না। চলতে থাকবে সারা পর্দাজুড়েই। প্রশ্ন আসতেই পারে এতেতো কন্টেন্ট ক্রোপ হয়ে যাবে। হ্যাঁ, তা যাবে। তা করলে যে সম্পূর্ণ পর্দা রাখা সম্ভব না। কিন্তু এখানেই ব্যবহার করা হবে বিশেষ প্রযুক্তি। আপনি হয়তো সিনেমা দেখছেন। সিনেমার এক দৃশ্যে দু'জনের মধ্যে কথোপকথন হচ্ছে। এই অবস্থায় স্ক্রিন রোটেট করে পোর্ট্রেট মোডে আনলেন। তখন মূলত ভিডিওটি জুম ইন হয়ে ঠিক এমন জায়গায় ফোকাস করবে যেখানে ব্যক্তিদ্বয় কথা বলছিলেন। এতে ঐ দৃশ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পরবে না। আপনার উপভোগটিও পূর্ণ পর্দায় থাকবে।
এই প্রক্রিয়াটি এমনভাবে হবে যে, পার্থক্য বুঝতে পারাটা কঠিন হয়ে যাবে। তবে এটি সম্পূর্ণ হতেও ভিডিও কন্টেন্টগুলো তৈরিও করতে হবে ভিন্ন প্রযুক্তিতে। এতে খরচের পরিমাণও বেড়ে যাবে। তবে এবছরের এপ্রিলে যাত্রা শুরু করা কোম্পানিটির কর্ণধার মনে করেন, গ্রাহক পর্যায়ে সাবস্ক্রিপশন ফি কম রেখেও কিছিদিন পর এর থেকে লাভ করা সম্ভব।